ফসল উৎপাদনে প্রতিকূল আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রভাব (পাঠ ৬)

সপ্তম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - কৃষিশিক্ষা - কৃষি ও জলবায়ু | NCTB BOOK
1.9k
Summary

আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রভাব ফসল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিকূল আবহাওয়া ফসলের প্রতি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যার মধ্যে রয়েছে:

  1. অতিবৃষ্টি: এই অবস্থায় অধিক বৃষ্টিপাত শাকসবজি উৎপাদন ব্যাহত করে, গাছ নষ্ট করে এবং বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  2. শিলাবৃষ্টি: বৃষ্টির সাথে বরফের খণ্ড পড়া ফসলের জন্য ক্ষতিকারক। এটি ফসলের অংশগুলোকে ভেঙে ফেলে, বিশেষ করে বোরো ধান, পাট ও ফলের ক্ষেত্রে।
  3. খরা: দীর্ঘ বৃষ্টিহীন অবস্থায় মাটিতে পানির ঘাটতি দেখা দেয়, যার ফলে গাছ শুকিয়ে মারা যায়। খরাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: তীব্র, মাঝারি এবং সাধারণ।
  4. বন্যা: নিচু ও মাঝারি নিচু এলাকার ফসল প্লাবিত হয়। এটি বিশেষত ধানের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর, বিশেষ করে আমন ও বোরো ধানের জন্য।

শিক্ষার্থীরা অতিবৃষ্টিশিলাবৃষ্টি দ্বারা ফসলের ক্ষতি বিষয়ে আলোচনা করবে। নতুন শব্দ: অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, তীব্র খরা, মাঝারি খরা, সাধারণ খরা।

আবহাওয়া ও জলবায়ু অনুকূল থাকলে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও জলবায়ুতে ফসল উৎপাদন হ্রাস পায়, এমনকি উৎপাদন পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আমরা এ পাঠে বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল আবহাওয়া নিয়ে আলোচনা করব। এ ধরনের আবহাওয়ায় ফসলের কী ধরনের ক্ষতি হয় সে সম্পর্কেও জানব।

১. অতিবৃষ্টি: স্বাভাবিকের তুলনায় যখন কোনো স্থানে বেশি বৃষ্টিপাত হয় তখন তাকে আমরা অতিবৃষ্টি বলি। অতিবৃষ্টির কারণে বর্ষাকালে শাকসবজির উৎপাদন ব্যহত হয়। অতিবৃষ্টির কারণে শাকসবজির গাছ মাটিতে হেলে পড়ে পাতা, ফুল-ফল নষ্ট হয়ে যায়। অতিবৃষ্টির ফলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় মাটিতে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। এ অবস্থায় উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি অনেক গাছ মারাও যায়; যেমন- কাঁঠাল, পেঁপে। এ জন্য অতিবৃষ্টির মাধ্যমে জমা পানি দ্রুত নিকাশের ব্যবস্থা করতে হয়।

২. শিলাবৃষ্টি: বৃষ্টিপাতের সাথে যখন বরফ খণ্ড পতিত হয় তখন তাকে শিলাবৃষ্টি বলে। বাংলাদেশে প্রতি বছর চৈত্র-বৈশাখ মাসে শিলাবৃষ্টি হয়ে থাকে। শিলাবৃষ্টির পরিমাণ দেশের উত্তরাঞ্চলের চেয়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বেশি হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কালবৈশাখীর সাথে শিলাবৃষ্টি হয়। শিলাবৃষ্টি ফসলের প্রচুর ক্ষতি সাধন করে। শিলার আঘাতে ফসলের পাতা, কচি ডাল, ফুল, ফল ভেঙে ঝরে পড়ে, থেঁতলে যায়। শিলাবৃষ্টির পরিমাণ বেশি হলে কয়েক মিনিটের মধ্যে ফসল মাটির সাথে মিশে যেতে পারে। আমাদের দেশে বোরো ধান, পাট, আম, কলা, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি ফসল শিলাবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে।

৩. খরা: দীর্ঘ দিন বৃষ্টিপাতহীন অবস্থাকে খরা বলে। আমাদের দেশে চৈত্র মাস থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত সময়ে একটানা ২০ দিন বা তার বেশি দিন ধরে কোনো বৃষ্টিপাত না হলে তাকে খরা বলে। অনাবৃষ্টির কারণে মাটিতে ক্রমান্বয়ে রসের ঘাটতি দেখা দেয়। ফসল যে পরিমাণ পানি মাটি থেকে শোষণ করে তার চেয়ে প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় বেশি পানি ত্যাগ করে। এ অবস্থায় ফসলের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি অবস্থা বিরাজ করে। এ অবস্থাকে খরা কবলিত বলা হয়। খরার ফলে গাছ নেতিয়ে পড়ে, খরা তীব্র হলে গাছ শুকিয়ে মারা যায়। খরার ফলে ফসলের বৃদ্ধি ও বিকাশ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ফসলের ফলন কমে যায়। ফসলের ক্ষতির মাত্রার উপর নির্ভর করে খরাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়; যথা- তীব্র খরা, মাঝারি খরা এবং সাধারণ খরা। তীব্র খরায় ৭০-৯০ ভাগ ফলন ঘাটতি হয়। মাঝারি খরায় ৪০-৭০ ভাগ এবং সাধারণ খরায় ১৫-৪০ ভাগ ফলন ঘাটতি হয়ে থাকে। বাংলাদেশে প্রায় সকল মৌসুমেই ফসল খরায় কবলিত হয়। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর এবং মধুপুর অঞ্চলে তীব্র থেকে মাঝারি খরা দেখা দেয়।

৪. বন্যা: বন্যার পানির উচ্চতা, পানির গতি ও বন্যার স্থায়িত্বের উপর ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি নির্ভর করে। নিচু ও মাঝারি নিচু এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। ফলে ফসল বিশেষ করে ধানক্ষেত ডুবে যায়। সাধারণত আমন ধান রোপণের সময় বা রোপণের পর বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ঢল বন্যায় হাওর অঞ্চলে বোরো ধান পাকার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কাজ: শিক্ষার্থীরা দুটি দলে ভাগ হয়ে যাও। এক দল অতিবৃষ্টি এবং অপর দল শিলাবৃষ্টির কারণে ফসলের কী কী ক্ষতি হয় তার তালিকা তৈরি করে বোর্ডে উপস্থাপন কর।

নতুন শব্দ: অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, তীব্র খরা, মাঝারি খরা, সাধারণ খরা

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...